An IIPM Initiative
শুক্রবার, এপ্রিল 18, 2014
 
 

পাখি সব করে রব

 

কিন্নর রায় | Issue Dated: এপ্রিল 29, 2012
 

 

 

আমি হব সকালবেলার পাখি

 

সবার আগে কুসুমবাগে উঠব আমি ডাকি

 

সূয্যিমামা জাগার আগে উঠব আমি জেগে...

 

 

ইরকম স্কুলপাঠ্য লাইনের পাশাপাশি কলকাতার কলেজস্ট্রিটের আশুতোষ লাইব্রেরি থেকে প্রকাশিত মাসিক শিশুসাথী তখন কোনও কোনও লেখাপড়ার চর্চাঅলা বাঙালির বাড়িতে প্রতিমাসে আসে৷ যেমন নিয়ম করে আসতে থাকে দৈনিক খবরের কাগজ, গয়লার আনা দুধ, পরবর্তী সময়ে কলকাতায় বহুক্ষেত্রেই যা হরিণঘাটার বোতলবন্দি দুধ হয়ে যায়, শত্তুপোত্তু, মোটা পুরু কাচের সেই বোতল হিমায়িত পাত্র থেকে নেমে আসত, শাদা বড়সড় গাড়ির পেটের ভেতর থেকে সকালে-বিকালে৷ কলকাতার পাড়ায় পাড়ায় ছোট্ট দুধের ডিপো বা গুমটি-র ভেতরে বসতেন দুধ-দিদিমণিরা, থাকত কার্ড৷ আগাম টাকা জমা দিয়ে সেই কার্ড দেখিয়ে পাওয়া যেত সরকারি দুধ৷ টোনড, ডবল টোনড, কাউ মিল্ক৷ রুপোলি রাংতার ছিপি মোড়া কাচের বোতলের গায়ে এমবস করা অশোকস্তম্ভ৷ আগের দিনের খালি বোতল ফেরত দিয়ে পরদিনের দুধভর্তি বোতল বাড়ি নিয়ে যাওয়া৷ দুধভরা বোতলের গায়ে তখনও যান্ত্রিক হিমের পরশ৷ সোনালি-রুপোলি রাংতা-ছিপিতে দুধের কোয়ালিটি বোঝা যায়৷ রুপালিতে ডবল টোনড, সোনালিতে গরুর দুধ৷ বেগুনি আর রুপোলি ডোরাদার ছিপিঅলা বোতলে টোনড মিল্ক৷

থাক সে-সব পুরনো ছবি আর দুদু-ভাতু গপ্পো৷ যে কথা বলছিলামবহু মধ্যবিত্ত সাহিত্যপ্রেমীর বাড়িতেই ঘঁুটে, কাঠ, কয়লা, কেরোসিন, নুন, চাল-ডাল, মুদি-মশলার সঙ্গে একখানা মাসিক শিশুসাথী নয়ত শুকতারা

মনে আছে 1962-63-র কোনও শিউলি-ডাকা, আলো-ঝলমল ভোরে আগের রাতে বাবার কিনে আনা বার্ষিক শিশুসাথী জ্বলজ্বল করছিল আমাদের বালির শান্তিরাম রাস্তার বাড়িতে, ছ-কোনা টেবিলের উপর৷ কতই-বা দাম হবে তার! চার কি পাঁচটাকা বড়জোর৷ কিংবা হয়ত ততও নয়, আরও কম৷ তার ভেতরেই কত কত আনন্দ-আলপনা, সাতশো মজা৷ সে সময়টায় মহালয়ার দিন বা ঠিক তার আগের দিন বেরত নামকরা সব পুজোবার্ষিকীর শারদসংখ্যাছোটদের, বড়দের৷ সেইসঙ্গে এইচএমভি-র পুজোর গানের বইশারদ অর্ঘয৷ পুজোর সময় বাংলা গানের যা যা রেকর্ড বেরল হিজ মাস্টার্স ভয়েজ থেকে, তার কথা থাকত এই বইটিতে৷ চেহারায় অনেকটা যেন ড্রইং খাতাএমন কায়দাতেই খুলতে হত সেই চমৎকার ছাপা কেতাবটি৷ মলাটে সহাস্যময়ী সাবেকি দুর্গা৷ এখন যেমন জুন-জুলাই মাস থেকেই পুজোসংখ্যা প্রকাশের তাণ্ডব শুরু হয়, তখন কিন্তু এমনটি ছিল না৷

শিশুসাথী-র পাশাপাশি তখন বেরত দেব সাহিত্য কুটীর-এর পুজোবার্ষিকী৷ তখনও শুকতারা-র শারদসংখ্যা বেরনোর চল হয় নি৷ প্রতিমাসের শুকতারা-য় থাকত দাদুমণির চিঠি৷ সেই সঙ্গে পৌরাণিক গল্প৷ যুগান্তর-এর ছোটদের পাততাড়ি বেরত অখিল নিয়োগী (স্বপনবুড়ো)-র পরিচালনায়৷ বাবুইবাসা বোর্ডিং-সহ বহু গ্রন্হের লেখক  ছিলেন স্বপনবুড়ো৷  বাবুইবাসা বোর্ডিং সম্ভবত ধারাবাহিকভাবে বেরিয়েছিল মাসিক শিশুসাথী-তে৷ বিমল ঘোষ (মৌমাছি) ছিলেন ছড়া ও গল্পলেখক৷ তিনিই ছিলেন আনন্দবাজার পত্রিকার আনন্দমেলা-র যে পাতাটি বেরত, তার পরিচালক৷ তখন ডাকে পাঠানো অজানা, অপরিচিত লেখকদের লেখা ছাপা হত ছোটদের পাততাড়ি আর আনন্দমেলায়৷ এঁরা দু-জনেই প্রতি সপ্তাহে চিঠি লিখতেন নিজেদের জন্য নির্দিষ্ট পত্রিকার পাতায়৷ ফলে পাঠকদের সামনাসামনিমুখোমুখি না-দাঁড়িয়েও তাঁরা কথা বলে যেতেন পাঠকদেরই সঙ্গে৷ তখন শারদীয়া যুগান্তর-এর একটা ছোট অংশে ছাপা হত ছোটদের জন্য ছড়া, কবিতা, গল্প, তথ্যমূলক লেখাছোটদের পাততাড়ি নাম দিয়ে৷ আনন্দবাজার পত্রিকার শারদসংখ্যাতেও বেশ কয়েকটি পাতা নির্দিষ্ট থাকত আনন্দমেলার জন্য৷ দৈনিক বসুমতী-র শারদসংখ্যাতেও ছোটদের জন্য আলাদা বিভাগ থাকত৷

মৌমাছি, স্বপনবুড়ো দুজনেই নামকরণ করতেন বহু নবজাতক-জাতিকার৷ এমনকি, বাড়ির পোষা কুকুর, বেড়াল, টিয়াপাখিরও৷ ছোটদের পাততাড়িতে স্বপনবুড়োর লম্বা দাড়িঅলা ছবি ছাপা হত৷ বাস্তবে তিনি তা একেবারেই ছিলেন না৷ টাক মাথা, ক্লিন শেভড গোল মুখএ-রকম ছিলেন অখিল নিয়োগী মশাই৷

যুগান্তরের ছোটদের সংগঠনের নাম ছিল সব পেয়েছির আসর৷ আনন্দবাজার পত্রিকার ছায়ায় থাকা এরকম সংগঠনের নাম ছিল মণিমেলা৷ না-ভাঙা ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিরও ছিল একটি কিশোর সংগঠন, নাম কিশোরবাহিনী৷ সুকান্ত ভট্টাচার্য এই সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ছিলেন৷ আসলে সময়টাই ছিল তখন অন্যরকম৷ কলকাতার প্রায় প্রতি পাড়াতেই সব পেয়েছির আসর, মণিমেলা নয়ত কিশোরবাহিনী-করা ছেলেমেয়েরা থাকত৷

দৈনিক বসুমতী-র ছোটদের পাতা দেখতেন সাহিত্যিক বিশু মুখোপাধ্যায়৷ তিনি বিষ্ণুশর্মা নামে ছোটদের জন্য সাপ্তাহিক চিঠি লিখতেন দৈনিক বসুমতীর পাতায়৷ অকৃতদার বিশুবাবু ছিলেন সকলের বিশুদা৷ তাঁর পাঞ্জাবির ঝুল-পকেটে সবসময় দেদার বিলোনোর জন্য থাকত সস্তার টক-মিষ্টি লজেন্স৷ সবাইকে, মানে যার সঙ্গে দেখা হত - তাকেই তিনি লজেন্স দিতেন হাসিমুখে৷ তাঁর সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করে ও ঘনিষ্ঠতার সূত্রে এই অভিজ্ঞতা হয়েছে৷ বিশুদার প্রয়াণের পর বিনা পারিশ্রমিকে ছোটদের পাতাটি বেশ কয়েকমাস দেখি৷ তখন সোমবার করে বেরত আনন্দমেলা, মঙ্গলবার ছোটদের পাততাড়ি৷ আর বৃহস্পতিবার দৈনিক বসুমতীর ছোটদের পাতা বেরত৷

জীবনলাল বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত সত্যযুগের ছোটদের পাতা দেখতেন বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক হরেন ঘটক৷ তিনি বিখ্যাত ছিলেন মাস্টারদা নামে৷ একসময় যুগান্তরের ছোটদের পাততাড়ি-র কার্টুন আঁকতেন কাফী খাঁ৷ সেই সঙ্গে যে ছড়া ছাপা হত, তার লেখক হরেন ঘটক৷ ছোটদের পাততাড়িতে কাফী খাঁ-র আঁকা কার্টুনের সঙ্গে হরেন ঘটকের একটি ছড়ার কথা এখনও মনে আছে – “কুমীর যেমন পক্ষী দিয়ে সাফ করে দাঁত...পরের লাইনটা এখন আর পুরোপুরি স্পষ্ট করে মনে নেই৷ তবে তাঁর শেষ শব্দটি ছিল বাত৷ সেই কার্টুনে কুমীরের বিশাল হঁা-মুখে একটা ছোট পাখি বড় বড় দাঁতের ফাঁক থেকে পচা মাংস টেনে বার করছে৷

ধীরেন্দ্রলাল ধর ছিলেন ছোটদের লেখালিখি করা একজন বিশিষ্ট জন৷ তাঁর লেখালিখির কথা এখন আর কতজনই বা মনে রেখেছে! কামানের মুখে নানকিঙ, ‘অসি বাজে ঝনঝনএইসব কিশোর সাহিত্যের রচনাকার ছিলেন ধীরেন্দ্রলাল ধর মশাই৷ কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের ভেতর তাঁর একটি অতি ছোট্ট খুপরি দোকানঘর ছিল৷ ছোটদের জন্য আনন্দ নামে একটি বার্ষিক সংকলন তিনি প্রকাশ করতেন প্রত্যেক পুজোর সময়৷ বোর্ড-বাঁধাই সেই বার্ষিক সংকলনে ছড়া-কবিতা-গল্প সবই থাকত৷ বহুবছর হল ধীরেনবাবু আর নেই, বার্ষিক আনন্দও আর বেরয় না৷ ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায়ের এবংপুরের টিকটিকিখুব সম্ভবত এইসময়ই বেরিয়েছিল বা একটু পরে৷ আর লিখলেন না ইন্দ্রনীল৷ স্কিজোফ্রেনিয়ার ভূত তাঁকে গিলে খেল৷

 

 

পান্তা খেয়ে শান্ত হয়ে কাপড় দিয়ে গায়

 

গরু চরাতে পাচন হাতে রাখাল মাঠে যায়

দেবসাহিত্য কুটীর-এর পূজাবার্ষিকীর কথা তো আগেই এসেছে৷ অসাধারণ তার ছাপা বাঁধাই, কী চমৎকার কাগজ! একেবারে যাকে বলে আর্টপেপারে ছাপা৷ দেবালয়, ‘মণিহার, ‘ইন্দ্রধনুপারিজাতকী দারুণ সব তাদের নাম৷ কে না ছিলেন সেইসব ছোটদের পূজাবার্ষিকীর লেখকসূচিতে! তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রেমেন্দ্র মিত্র, অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, বনফুল, হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়, গজেন্দ্রকুমার মিত্র, আশাপূর্ণা দেবী, আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, বিধায়ক ভট্টাচার্য, শিবরাম চক্রবর্তী, সমরেশ বসু এমন অনেকেই৷ সুকুমার দে সরকার সেখানে বনের গল্প লিখতেন৷ বিধায়ক ভট্টাচার্য লিখতেন অমরেশ নামে একটি চরিত্রকে নিয়ে নাটক৷ অমরেশ অবতার হলএরকম একটা নাটকের নাম এখনও মনে আছে৷ শিবরাম বা শিব্রাম চকরবরতি লিখতেন তাঁর পেটেন্ট চরিত্র হর্ষবর্ধন-গোবর্ধনদের নিয়ে৷ প্রেমেন্দ্র মিত্রের ঘনাদা তো এখানেই শুরু হয় গল্পের নাম ছিল মশা৷ প্রেমেন্দ্র মিত্রর ঘনাদার সঙ্গে অজিত গুপ্তের আঁকা ছবি একেবারে মিলেমিশে গিয়েছিল৷ তবে দেব সাহিত্য কুটীর-এর পূজাবার্ষিকীতে ঘনাদার ছবি আঁকতেন প্রতুল বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সেই ঘনাদার নাকের নিচে পাকানো বড় কালো গোঁফ ছিল৷

সমরেশ বসু ছোটদের জন্য তাঁর তৈরি করা চরিত্র গোগল-কে নিয়ে লিখতেন৷ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় লিখতেন নীল মানুষকে নিয়ে৷ গ্রহান্তর থেকে আসা নীল মানুষ এই পৃথিবীতে কেমন করে নিজেকে একটু একটু করে সবার সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করল, তারই নানা বিবরণ ছাপা হত এই গল্পে৷ শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় লিখতেন সাধু কালাচাঁদ-কে নিয়ে৷ সুকুমার রায়ের পাগলা দাশু ছাড়া সাধু কালাচাঁদের আর কোনও জুড়িদার নেই বাংলা সাহিত্যে৷ 1978-, যে বছর পুজোর আগে সমস্ত পশ্চিমবাংলাই প্রায় জলের তলায়, যেবার মুত্তিু পেল সত্যজিৎ রায়ের শতরঞ্জ কে খিলাড়ি, সে-বারই তো দেব সাহিত্য কুটীর-এর পূজাবার্ষিকীতে শ্যামলবাবু লিখলেন সাধু কালাচাঁদের মেদিনীপুরাণ৷ কালাচাঁদকে নিয়ে সে এক দীর্ঘ আশ্চর্য কাহিনি৷

শিম্পু নামের এক শিম্পাঞ্জি আর তার ছেলেকে নিয়ে চমৎকার দীর্ঘকবিতা থাকত এই বার্ষিকীতে৷ দেশ-বিদেশের বড় বড় ডাকাতদের নিয়ে লিখতেন বিশু মুখোপাধ্যায়৷ হর্ষবর্ধন-গোবর্ধন কাহিনির সঙ্গে ছবি আঁকতেন শৈল চক্রবর্তী৷ ইলাস্ট্রেশনে সেই চিরাচরিত চেনা লেখক শিবরাম৷ ঘাড়ে বাবরি, গালে লম্বা জুলপি৷ পরণে ধুতি, ঢোলা হাতা সিল্কের পাঞ্জাবি৷ হর্ষবর্ধন আর গোবরা-গোবর্ধনরাও নিজের নিজের চেহারায়৷ হর্ষবর্ধনের মাথাভর্তি কোঁচকান কোঁচকান চুল৷ পেটানো স্বাস্থ্য৷

শৈল চক্রবর্তী মশাই নিজে গল্প লিখতেন, ছড়া লিখতেন, ছবি তো আঁকতেনই৷ ডাকু নামে তাঁর আঁকা একটি চরিত্র ছিল৷ অমৃতবাজার পত্রিকায় ছোটদের পাতায় ইংরেজিতে ডাকু বেরত৷

পাঠশালা নামে ছোটদের একটি পত্রিকা ছিল৷ ছিল সোনার কাঠি, শিশুতীর্থ৷ তেপান্তব় নামেও ছোটদের একটি পত্রিকা ছিল৷ ঝুমঝুমি, রোশনাইএই দুটি পত্রিকা সত্তর দশকেও বেরত এশিয়া পাবলিশিং থেকে৷ ঝুমঝুমি-র সাইজ ছিল অনেকটা মিনি বইয়ের৷ সম্পাদনা করতেন সরল দে৷ রোশনাই বের করতেন এশিয়া পাবলিশিং-এর মালিক মৃণাল দত্তর স্ত্রী গীতা দত্ত৷ ভ্রমণ সঙ্গী বেরনোর অনেক আগে থেকেই তাঁরা হেমেন্দ্রকুমার রায় রচনাবলি প্রকাশ করেছিলেন, খণ্ডে খণ্ডে৷ দৈনিক কিশোর বার করতেন ভোম্বল সর্রের লেখক খগেন্দ্রনাথ মিত্র৷ কিশোরদের জন্য প্রকাশিত সেই খবরের কাগজে কিশোর-কিশোরীদের উপযোগী নানা সংবাদ থাকত৷ পরে কিশোর বন্ধ হয়ে যায়৷

সত্তরদশকের গোড়ায় দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাটের ঈশ্বর গাঙ্গুলী স্ট্রিট থেকে বেরত দেয়ালা নামে একটি ছোটদের পত্রিকা৷ সম্পাদনা করতেন শুভেন্দু গঙ্গোপাধ্যায়, শুদ্ধেন্দু গঙ্গোপাধ্যায়৷ দেয়ালা প্রথমে সাইজে মিনি থাকলেও পরে ম্যাকসি হয়ে ওঠে৷ ক্ষিতীন্দ্রনারায়ণ ভট্টাচার্য সম্পাদনা করতেন রামধনু৷ এম সি সরকার অ্যান্ড সন্স থেকে সুধীরচন্দ্র সরকারের তত্ত্বাবধানে বেরত রঙমশালআগমনী নামে ছোটদের একটি বার্ষিকী বেরত বহু বছর আগে৷

কিশোরভারতী প্রথম প্রকাশিত হয় ষাটের দশকে৷ দীনেশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত কিশোরদের জন্য এই মাসিক পত্রিকাটি বেরয় বিদ্যোদয় লাইব্রেরি থেকেই কি? কারণ, দীনেশবাবু বিদ্যোদয় লাইব্রেরিরও প্রাণপুরুষ ছিলেন৷ প্রথম প্রকাশই পুজোর সময় শারদসংখ্যা হিসাবে৷ প্রচছদ এঁকেছিলেন সূর্য রায়৷ খোলা মনের মেলাতে নামে একটি সমকালীন রাজনৈতিক বিতর্কের দুটি পাতা ছাপা হত সেখানে৷ এই আসরটি পরিচালনা করতেন সুজনবন্ধু

পাতার বাঁশি নামে একটি ছোটদের জন্য একটি পত্রিকা বেরত৷ তেমন উল্লেখযোগ্য হয়তো নয়, কিন্তু প্রকাশিত হয়েছে অনেকদিন ধরে৷ সমীর ঘোষের সম্পাদনায় তীর ধনুক বেরত আশির দশকে৷ এর মলাট এঁকেছিলেন যতদূর মনে পড়ছে গণেশ পাইন৷ তবে ঠাকুরবাড়ির বালক চোখে পড়েনি কখনও৷ পরে তার সংকলিত রূপ দেখেছি৷ সম্ভবত ষাট দশকের শেষের দিকেই বেরয় আনন্দমেলা৷ বিমল মিত্র আর মনোজ বসু ধারাবাহিক লিখতে শুরু করেন৷ বিমল মিত্র সম্ভবত প্রথম সংখ্যা থেকেই ধারাবাহিক উপন্যাস লেখেন৷ আনন্দমেলার হিন্দি মেলা বেরয় সম্ভবত আশির দশকে৷ বন্ধও হয়ে যায়৷ আনন্দমেলার প্রথম দিককার শিল্প নির্দেশক ছিলেন পূর্ণেন্দু পত্রী৷ পরে ক্ষমতার দড়ি টানাটানিতে আর্ট ডিরেকটর বদলে যায়৷ মেলা নামে ছোটদের হিন্দি পত্রিকাটি নন্দন, ‘পরাগ থেকে চরিত্রে আলাদা ছিল৷

মাস পয়লা নামে আরও একটি ছোটদের পত্রিকা বেরত৷ দেব সাহিত্য কুটীর থেকে তাদের পুজোবার্ষিকী ছাড়াও বেরত হিপ হিপ হুররে, ‘কত গান তো হল গাওয়া-র মতো সংকলন৷ কিশোর ভারতীতে প্রদীপকুমার রায় দীর্ঘ ছড়ায় রামায়ণের কাহিনি বলতেন৷ রুণু নামে একটি চরিত্রকে নিয়ে একটি করে অসাধারণ কাহিনি বেরত প্রতি পুজোসংখ্যায়৷ ভাবা নামের এক অদ্ভুত কিশোরকে নিয়ে লিখতেন সম্পাদক দীনেশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়৷ গোয়েন্দা ইন্দ্রজিৎ রায়কে নিয়ে কাহিনি বেরত৷ গোয়েন্দা ইন্দ্রনাথ রুদ্রকে নিয়ে লিখতেন অদ্রীশ বর্ধন৷

আশুতোষ লাইব্রেরি থেকে প্রকাশিত শিশুসাথী-র পুজোসংখ্যায় জাদুকর এ সি সরকার ম্যাজিক শেখানোর জন্য প্রবন্ধ লিখতেন, সহজ ভাষায়৷ তার মধ্যে একটি ছিল টাকার গাছ তৈরি করার খেলা৷ শিশুসাথী বন্ধ হয়ে গেল ধীরে ধীরে৷ আশুতোষ লাইব্রেরির খরিদ্দার শূন্য ফাঁকা কাউন্টারে আদ্দির হাফ শার্ট আর ধুতি পরা এক বিষণ্ণ মুখের বৃদ্ধকে বহুদিন ধরে বসে থাকতে দেখেছি দোকান আগলে৷ তারপর একদিন আর সেই বুড়ো মানুষটিকে দেখতে পেলাম না৷ আশুতোষ লাইব্রেরিও ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গেল৷

পক্ষীরাজ বেরত কলেজস্ট্রিট থেকে৷ সম্পাদনা করতেন প্রেমেন্দ্র মিত্র৷ সেটা সত্তর দশকের মাঝামাঝি সময়৷ এই পত্রিকাটির মলাট আঁকতেন পূর্ণেন্দু পত্রী৷ বেশ কয়েক বছর ধরে চলেছিল ছোটদের এই কাগজটি৷ টার্গেট নামে একটি বাচচাদের একটি ইংরেজি পিরিওডিক্যাল বেরত আশির দশকে, ইন্ডিয়া টুডে-র ঘর থেকে৷

 

 

ছোট খোকা বলে অ আ

 

শেখেনি সে কথা কওয়া

আজকাল থেকে সকাল নামে ছোটদের একটি কাগজ বেরত আশির দশকে৷ সম্পাদক হিসেবে অশোক দাশগুপ্তর নাম ছাপা হলেও সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন পূর্ণেন্দু পত্রী৷ প্রতিক্ষণ ছেড়ে পূর্ণেন্দু পত্রী সকাল-এ আসেন৷ আজকাল-এর ছোটদের পাতা প্রকাশিত হত আশির দশকে৷ শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় সেখানে লিখেছিলেন ভাস্কো-দা-গামা-র ভাইপো৷ ধ্রুবজ্যোতি নন্দী দেখতেন আজকাল-এর ছোটদের পাতা৷ পরে আজকাল-এ ছোটদের পাতা বন্ধ হয়ে যায়৷ শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের ভাস্কো-দা-গামা-র ভাইপো-র একেবারে শুরুতে আছে একটি রামবিচছু ছেলে তার বাবার স্টকে রাখা আলু ছুড়ে ছুড়ে মারছে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় আর অপর্ণা সেনদের৷ পরে সেই কাহিনিই সম্পূূর্ণ ঘুরে গিয়ে অন্যদিকে মোড় নেয়৷ ভাস্কো-দা-গামা, পর্ুগিজ জলদসু্য, লিসবন বা লিসবোঁয়া, প্রাচীন পর্ুগালসবই উঠে আসতে থাকে এ-লেখায়৷ সকাল-এর শারদসংখ্যায় অশোক দাশগুপ্ত লিখেছিলেন রণজির ব্যাট আর আরও জোরে নামে দুটি আশ্চর্য আখ্যান৷

ছোটদের বিজ্ঞানভিত্তিক পত্রিকা কিশোর জ্ঞানবিজ্ঞান প্রকাশ করেছিলেন রবীন বল, শৈব্যা প্রকাশন বিভাগের ব্যানারে৷ সমরজিৎ কর ছিলেন এই পত্রিকার প্রধান সম্পাদক৷ যদিও সম্পাদনা-কর্মের প্রায় সবটাই মূলত রবীন বল মশাইয়ের পরিচালনাতেই হত৷ কিশোর জ্ঞানবিজ্ঞান-ও বেরয় শারদীয় সংখ্যা হিসাবে, সত্তর দশকে৷ উপস্থিত ছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র৷ আনন্দবাজার পত্রিকার মালিক-সম্পাদক অশোককুমার সরকারও সম্ভবত ছিলেন৷ মহাবোধি সোসাইটি হল-এ ছিল প্রথম সংখ্যা প্রকাশের অনুষ্ঠান৷ এই পত্রিকার উদ্যোগেই ঘনাদা ক্লাব তৈরি হয় ইংল্যান্ডের শার্লক হোমস ক্লাবের অনুকরণে৷ স্টেটসম্যান-এর সাংবাদিক বিশিষ্ট পড়ুয়া ধরণী ঘোষ, গল্পকার সিদ্ধার্থ ঘোষ, স্বয়ং রবীন বল আর এই অধমও ঘনাদা ক্লাব-এর ব্যাপারে নানা উদ্যোগ নিয়েছিল৷ ক্লাব-এর লোগোটি এঁকেছিলেন বিশিষ্ট শিল্পী রেবতীভূষণ৷ একচোখ বন্ধ একটি দাঁড়কাকের ছবি ছিল সেই লোগোটিতে৷ ঘনাদা ক্লাবের প্রথম সভা বসেছিল দক্ষিণ কলকাতার হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটেপ্রেমেন্দ্র মিত্রের বাড়ির দোতলায়৷ স্বয়ং প্রেমেন্দ্র মিত্র সিল্কের পাঞ্জাবি, চুনট করা ধুতি পরে উপস্থিত ছিলেন৷ আর ছিলেন লীলা মজুমদার৷ ঘনাদা ক্লাব তৈরি করে বেশ একটা হইচই বাঁধিয়ে দিতে চেয়েছিলেন রবীন বল৷ প্রথম প্রথম খানিকটা আলোড়ন উঠলেও ঘনাদা ক্লাব নিয়ে পরে আর তেমন বড় করে কিছু হয় নি৷

দেব সাহিত্য কুটীর-এর পুজোসংখ্যায় অসাধারণ কমিকস আঁকতেন ময়ূখ চৌধুরী৷ তাঁর আসল নাম প্রসাদ রায়৷ বিশেষ করে অ্যানিম্যাল ড্রইংয়ে তাঁর জুড়ি মেলা ভার ছিল সে সময়ে৷ ময়ূখবাবুর আঁকা জীবজন্তুর ছবি সত্যজিৎ রায়েরও প্রশংসা কুড়িয়েছিল৷ ময়ূখবাবু কিশোর ভারতীতেও কমিকস আঁকতেন৷ পরে তার কিছু কিছু বই হয়ে বের হয়৷

ষাটের দশকেই বাঁটুল দি গ্রেট কমিকস হিসাবে মাসিক শুকতারা-র পাতা উজ্জলতর করতে থাকল৷ বাঁটুল ফঁু দিয়ে শত্রুসৈন্যর গোলা তাদের দিকেই ফিরিয়ে দেয়এমন ভাবনাও চালু হয়ে গেল এই কমিকস-এ৷ নারায়ণ দেবনাথের আঁকা হঁাদা-ভোঁদা শুকতারা-র আগেই পাঠকদের মজিয়ে দিয়েছিল৷ এবার তার সঙ্গে যুত্তু হল বাঁটুল৷ কিশোর ভারতীতে নন্টে-ফন্টে আঁকা শুরু করলেন নারায়ণবাবু৷ বাঁটুল, হঁাদা-ভোঁদা, নন্টে-ফন্টে, বাহাদুর বেড়াল ও সেইসঙ্গে কেল্টুদার কাণ্ড-কারখানাসবমিলিয়ে ছোটরা নানারকম মজা পেতে লাগল৷ সত্তর দশকে এসে হাজির হল বেলজিয়ান গোয়েন্দা তঁ্যা-তঁ্যা বা টিনটিন৷ অরণ্যদেব, তার ঘোড়া হিরো, নেকড়ে ডেভিল, বান্ধবী ডায়ানা পামার, রাজা, কিলাউয়ির সোনাবেলা, খুলি গুহা, ডলফিন নেফ্রিতিতি, মজবুড়ো, গুরানদের সঙ্গে সঙ্গে এসেছিল গোয়েন্দা রিপ কার্বি আর তার বাটলার অ্যাসিস্ট্যান্ট ডেসমন্ড৷ জাদুকর ম্যানড্রেক, হোজো, লোথার নিয়ে জানাডুর রহস্যময় জগৎ, সেইসঙ্গে ম্যানড্রেকের বিপুল সম্মোহন ক্ষমতা, তার বাবা থেরনের অলৌকিক জগৎ৷ টাইমস অব ইন্ডিয়া-র ইন্দ্রজাল কমিকস-এ অরণ্যদেবই বেতাল হয়ে গেল৷ তার ঘোড়ার নাম তুফান৷ রাজা সেখানে রেক৲স৷ আসলে দুটোই ফানটম-এর বাংলা অনুবাদ৷ ইন্দ্রজাল কমিকস’-এর আর একটি মহাকাশচারী চরিত্র ছিল ফ্ল্যাশ গর্ডন৷ খেলো কাগজে ছাপা রঙিন ইন্দ্রজাল কমিকস খুবই জনপ্রিয় ছিল৷ আনন্দবাজার পত্রিকার দুইয়ের পাতায় বেরত অরণ্যদেব আর গোয়েন্দা রিপ৷ সেটা ষাটের দশক৷ আনন্দবাজার পত্রিকার বিপুল উত্থানের সময়৷ যুগান্তর-ও মডেস্টি ব্লেজ, জেমস বন্ড, মাকড়শা ইত্যাদি বিদেশি কমিকস-এর  বঙ্গানুবাদের সঙ্গে সঙ্গে ঘনাদাকে নিয়েও কমিকস করা শুরু করে৷ সম্ভবত শিল্পী সুবোধ দাশগুপ্ত সেই কমিকস এঁকেছিলেন৷

সত্তর দশকে  বাংলা অনুবাদে আসা হার্জ বা আর্জ-এর টিনটিন বাংলায় অসম্ভব জনপ্রিয় হয়৷ টিনটিনের পোষা কুকুর স্নোয়ি বাংলায় হয়ে গেল কুট্টুস৷ ক্যাপ্টেন হ্যাডক, গোয়েন্দা জুড়ি থমসন অ্যান্ড থমসন তেমনই থেকে যায়৷ এদের পাশে নারায়ণ দেবনাথের বাঁটুল দি গ্রেট, হঁাদা-ভোঁদা, নন্টে-ফন্টে জরুরি হয়ে জেগে আছে বাঙালি জীবনে৷ এর বাইরেও বাহাদুর বেড়াল নামে একটি চরিত্রকে সামনে রেখে কমিকস এঁকেছেন নারায়ণবাবু৷ বেশ কয়েকবছর আগে তা ছাপা হত মাসিক শুকতারা-র মলাটে৷ তবে বাঁটুল দি গ্রেট, হঁাদা-ভোঁদা, নন্টে-ফন্টে-র মতো তা অত জনপ্রিয় হয় নি৷ দিলীপ দাসও কমিকস এঁকেছেন ছোটদের জন্যচুনোপঁুটি৷ সত্তরদশকে চন্দামামা-র বঙ্গানুবাদ চাঁদমামা ছোটদের মাসিকপত্র হিসাবে বাজারে এসে অসম্ভব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে৷ মূলত পৌরাণিক আর ঐতিহাসিক কাহিনি থাকত এতে৷

সত্তর দশক থেকেই ছোটদের লেখায় ভায়োলেন্স ঢুকে পড়তে থাকে যথেষ্ট পরিমাণে৷ যথেচছ গোলাগুলি, খুনজখম, রত্তুপাত তো থাকেই়, পরবর্তী সময়ে চাপা যৌনতার আভাসও ছঁুয়ে যায় ছোটদের কোনও কোনও লেখায়৷ ব্যতিক্রম ছিল সত্যজিৎ রায়ের প্রফেসার শঙ্কু, ফেলু মিত্তির আর বিমল করের অসামান্য সৃষ্টি কিকিরা৷ কেন যে জাদুকর কিকিরা জনপ্রিয় হল না কে জানে? এখন গত এক দশকে মোবাইল, ইন্টারনেট, ই-মেল, স্কাইপ, ই-চ্যাটিং, গুগল সার্চসব মিলিয়ে ছোটদের জগৎটাও হয়ত বদলে গেছে৷ আশির দশক থেকে প্রায়-অন্ধ প্রেমেন্দ্র মিত্র ঘনাদাকে নিয়ে নীলনদের উৎস সন্ধানে যাওয়ার ব্যাপারে হতাশ হয়েছিলেন এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক পড়তে না পারার দুঃখ, গ্লোব দেখতে না-পারার কষ্ট বুকে নিয়ে৷ ভাগ্যিস প্রেমেন্দ্র মিত্র এখন বেঁচে নেই৷ ঘরের কোনে অমিতশত্তিুধর ল্যাপটপকে রেখে তিনি হয়ত গুগল ম্যাপে নীলনদের গতিপথ আবিষ্কার করতে চাইছেন, এটা কল্পনাতেও আনা যায় কি! সন্দেশ-এর সত্যজিৎ রায়ের করা প্রচছদ, ভেতরের কোনও কোনও গল্পে তাঁর আঁকা ছবিসেই ইলাস্ট্রেশন তো যেন আলাদা করে বাড়িয়ে দিত গল্পের মর্যাদা, সে সবই তো ইতিহাস হয়ে গেছে৷ সন্দেশ-এ ছাপা লেখায় সেকস-ভায়োলেন্স তো অতি দূর অস্ত৲, কোনওরকম নেতিবাচক ব্যাপারস্যাপারও রাখতে দিতে না সত্যজিৎ রায়, নলিনী দাশরা৷ গোয়েন্দা গণ্ডালু-র লেখক নলিনী দাশ বহুবছর প্রয়াত, সত্যজিৎ রায়ও নেই৷ তবু সন্দেশ তাঁদের আদর্শ আঁকড়ে আছে৷

অরুণ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত শিশুমেলা-র কথাও বলা যেতে পারে অবশ্যই৷ বেশ অনিয়মিত অথচ সুন্দর এই পত্রিকাটি ছোটদের জন্য যাকে বলে একেবারে আদর্শ৷ বিশিষ্ট শিশু সাহিত্যিক অমরেন্দ্র চক্রবর্তী সম্পাদিত ছেলেবেলা আবারও নতুন সাজে বেরোচেছ৷ ছোটদের ভাল পত্র-পত্রিকার এই আকালের বাজারে ছেলেবেলা হয়তো অন্যরকম কোনও স্বপ্ন বুনে দেবে৷              

নিবন্ধটি কেমন লাগল:
মন্দ ভালো    
বর্তমান রেটিং 5.0
Previous Story

আগের নিবন্ধ

Next Story

পরবর্তী নিবন্ধ

Post CommentsPost Comments




প্রকাশের তারিখ: ফেব্রুয়ারী 10, 2013

ফোটো
ঈদের নমাজ
রাজ্যবাসীকে ঈদ-উল-ফেতার এর শুভেচ্ছা
কলকাতার জামে মসজিদ
বিজয় উত্সব